Tags

, , , , , , ,

এই নিন আপনার পানি , কি ব্যাপার বলুন তো, আপনাকে তো চিনতে পারলাম বলে মনে হয় না ৷ বলে ভ্রু টা একটু কুচকে তাকালেন আজির সাহেব ৷ আজিজ সাহেব বেশ অধৈর্য মানুষ বলা চলে ৷ তার মাঝে বয়স বাড়লে নাকি মানুষের মেজাজ খিট মিটে হয় আরও বেশি৷ তাই হবে হয়তো ৷ তার সামনে বসা একটা তরুণ, বয়স ১৮-১৯ হবে হয়তো ৷ ছেলেটার চোখে চশমা, পড়নে একটা পাঞ্জাবী ৷ এই বয়সে ছেলে পেলেরা তেমন একটা পাঞ্জাবী পড়ে না ৷ পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার চোখ বুলিয়ে – এই যে শুনছেন কি চাই ? বলে মোটা-মোটি একটা ধমক দিল আজির সাহেব ৷ আজির সাহেবের ধমক শুনে ছেলেটা কিছুটা থতমত খাবে বলে ভাবলে ও ছেলেটার মাঝে তেমন বলার তেমন কোনও লক্ষণ দেখতে পেল না আজির সাহেব ৷ মহা বিরক্ত হলেন তিনি, শুরু করলেন , দেখ আমি খুবই ব্যস্ত মানুষ তোমার সাথে বাবা ফালতু সময় নষ্ট করার পরিস্থিতি আমার নাই ৷ ১ মাস ও নাই ঈদ এর, এই ম্যাগাজিন সেই ম্যাগাজিন সবার এক কথা আমার লেখা তাদের ঈদ সংখ্যায় চাই ৷ আর তুমি…. কথা টা শেষ করতে পারলেন না আজির সাহেব ৷ ছেলেটা বলে উঠলেন ঠাণ্ডা পানি ! ভীষণ চটে উঠলেন আজির সাহেব , উচ্চ স্বরে বলে উঠলেন দেখ ছেলে তুমি আমার ছেলের বয়সী হবে বেয়াদপী করছ আমার সাথে ? বাসায় ধুকতে দেওয়াই ঠিক হয়নি দেখছি ৷ আজির সাহেব রাগলে কোনও কিছু থাপড়ান , উনার সামনে কোনও টেবিল নেই তাই সোফার হাতল থাপড়াতে থাপড়াতে কথা গুলো বললেন ৷

 
ছেলেটা বলে উঠল , দেখুন আপনি আমার ভীষণ শ্রদ্ধার পাত্র আপনাকে অপমান করার প্রশ্নই … কথা টা বলতে শেষ করার আগেই আজির সাহেব বলে উঠলেন আরে রাখ তোমার ধানাই পানাই , মতলব টা কি সেটা পরিষ্কার কর !
 
 
ছেলেটাকে বেশ স্বাভাবিক ই মনে হল, কোনও ভাব লেশ হীন একটা অভিব্যক্তি, সেটা আজির সাহেব কে আরও খেপিয়ে তুলছে ৷ অবশেষে ছেলেটা বলল আমি আপনার “রস” উপন্যাসটির একজন ভক্ত ৷ আজির সাহেব বলে উঠলেন তো এখন আমি করব টা কি ?
 
 
ছেলেটা বলল জি একটু ধৈর্য ধরুন বলছি ৷ আজির সাহেব মনে মনে ভাবলেন বলে কি ব্যাটা ধৈর্য ধরতে ?? ফাজলামির একটা সীমা থাকা দরকার ৷
 
 
ছেলেটা বলল, যেটা বলছিলাম আপনার উপন্যাস টি খুব ভাল লাগছে ৷ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আপনি যেই পত্রিকায় এ উপন্যাসটি লিখেন সেই উপন্যাস তারা প্রতি সপ্তাহে একবার ছাপায় ৷ আজির সাহেব বললেন হু তাতে দোষের কি আছে ?
 
ছেলেটি যেন আজির সাহেবের কথায় গুরুত্ব দিল না, সে বলে গেল , যেহেতু তারা মাসে একবার ছাপায় উপন্যাস টি শেষ হতে আরও দুই মাস লাগবে ৷ আপনার কাছে আমার অনুরোধ আপনি আমাকে বাকি উপন্যাস টুকু পড়তে দিন ! আমি এখানে বসেই পড়ে যাব ৷ সেই পত্রিকা কিনতে যত টাকা লাগে আগামী দুই মাস এ , আমি আপনাকে তা ও দিয়ে যাব ৷ আপনি কি আমাকে এই উপকার টুকু করবেন ?
 
 
এবার আর পারলেন না আজির সাহেব ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ! তার মাথার ভেতর যেন একটা বিস্ফোরণ হয়েছে ৷ তিনি তবু নিজেকে সংযত করলেন ৷ করে উঠে দাঁড়ালেন বললেন বের হও ৷ এখুনি বের হও আমার বাসা থেকে ৷ ছেলেটা সেই ভাবলেশহীন চেহারাটা নিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল ৷ তার পর বের হয়ে চলে যাওয়ার সময় লেখক কে বললেন, স্যার লেখকদের অনেক শক্তি, তারা সৃষ্টি করে, জীবন দেয় কখনো কখনো ধ্বংস করে, কখনো ভালবাসায় কখনো কাঁদায় ৷ একজন মানুষের কাছে এত ক্ষমতা থাকা বোধয় ঠিক না স্যার ৷ ছেলেটা চলে গেল, আজির সাহেব বেশ অপমানিত বোধ করছেন ৷ এত টুকুন পুচকে ছেলে কত বড় কথা ৷
 
 
ছেলেটা যখন বাসায় পৌঁছুল তখন সন্ধ্যা হয় হয় করছে ৷ ছেলেটা মা কে বলল মা তোমার কথাই ঠিক ৷ মা এর চোখে জল টল মল করছে ৷ মনে মনে ভাবলেন খোদা তুমি খুব নিষ্ঠুর ৷ খুব বেশি কিছু চাই না তোমার কাছে মাত্র দুটো মাস আর কিচ্ছু চাই না ৷
 
২৯ মার্চ, ২০১৪
মাহবুব জামান আশরাফী